OrdinaryITPostAd

মিশরের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ (রহ.)

মিশরের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ (রহ.)
মিশরের উত্তরাঞ্চলে ১৯০৬ সালে এক ধর্মপরায়ণ, আল্লাহভীরু কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.), যিনি পরবর্তীতে ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন। সাইয়্যেদ কুতুবের (রহ.) কর্মময় জীবন ও সংগ্রাম মুসলিম উম্মাহর মাঝে একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর রচিত তাফসীর "ফি যিলালিল কুরআন" এবং ইসলামী সমাজ বিপ্লবের জন্য তাঁর অমূল্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কর্মজীবনে সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.) অধ্যাপনার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং পরে মিশরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইন্সপেক্টরের পদে নিযুক্ত হন, যা ছিলো অত্যন্ত সম্মানজনক। তিনি উচ্চতর শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরিত হন, যেখানে তিনি পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী সমাজের দৈন্যদশা খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে, ইসলামই সমাজের সমস্যাগুলোর একমাত্র সমাধান। ১৯৪৫ সালে তিনি ইখওয়ানুল মুসলিমীন আন্দোলনে যোগ দেন এবং তাঁর আদর্শ প্রচারে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে ওঠেন।


তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ে, রাজনৈতিক জুলুম ও অত্যাচারের শিকার হয়ে সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.) মিশরের সরকারের রোষানলে পড়েন। তাঁকে জেল-জুলুম, অত্যাচার এবং নানা প্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু দ্বীনের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় তিনি দেননি। তাঁর অনমনীয় অবস্থান ও ইসলামের সঠিক পথে অটল থাকার কারণে ১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করা হয়। তাঁর ফাঁসির দিনে মিশরের বিভিন্ন স্থানে তাঁর রচিত গ্রন্থ "ফি যিলালিল কুরআন" পুড়িয়ে ফেলা হয়, এবং ঘোষণা করা হয় যে, যার কাছে এই গ্রন্থ পাওয়া যাবে তাকে দশ বছরের জেল দেওয়া হবে। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, তাঁর লেখা গ্রন্থগুলি মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে থাকে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রেরণা হয়ে ওঠে।


তাঁর মৃত্যু যেন একটি অমর বার্তা বহন করে নিয়ে আসে। এমনকি তাঁর কবর কোথায় অবস্থিত তা আজও কেউ বলতে পারে না, তবে তাঁর আদর্শ ও চিন্তাধারা বেঁচে আছে। তাঁর তাফসীর গ্রন্থটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে, এবং এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে তাঁর এই তাফসীর পৌঁছায়নি।


ফাঁসির আগের রাতে তাঁকে কালিমা পড়ানোর জন্য একজন ইমাম পাঠানো হয়েছিল, যিনি সরকার থেকে বেতনপ্রাপ্ত ছিলেন। সেই ইমামকে দেখে সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.) প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কি কালিমার বিনিময়ে বেতন পাও?" উত্তরে ইমাম বলেছিলেন, "হ্যাঁ, সরকার আমাকে এই দায়িত্বের জন্য বেতন দেয়।" তখন সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.) বলেছিলেন, "কি আশ্চর্য! সেই কালিমা, যার ব্যাখ্যা আমি মুসলিম উম্মাহকে শিখিয়েছি, তারই জন্য আজ আমাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হচ্ছে। তোমার কালেমা তোমাকে রুটি দেয়, আর আমার কালেমা আমাকে ফাঁসিতে ঝোলায়।"


সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.)-এর এই মহান আত্মত্যাগ ইসলামিক বিপ্লবের পথপ্রদর্শক হয়ে আছে। তাঁর শাহাদাত শুধু এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং একটি আন্দোলনের বিজয়ের প্রতীক।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪